পথের পাঁচালী

পথের পাঁচালী

আমি হেঁটে যাই মেঘের কাছে. . .

পথের পাঁচালী RSS Feed
 
 
 
 

ছেঁড়া মানুষের পল্প

ঈশ্বর নাকি গুলশানেই থাকেন। গরিবের গরিবখানায় মলত্যাগ করতেও তিনি আসেন না! এক চোখা স্বৈরাচার ঈশ্বরের জগতটাই আলাদা। সেখানে ঝিকিমিকি রঙের মেলা। চোখ বন্ধ করলেই লাল-নীল স্বপ্ন। এ জগতে টাকা নিয়ে কোনো তপস্যা নাই। মাসের শেষে বাড়ি ভাড়ার ঝামেলা নাই। রিক্সা চড়ার ঠেকা নাই। শরীর বিক্রির কসরত নাই। চাকরী খোঁজার বালাই নাই। বাসে উঠার যুদ্ধ নাই। ঈশ্বর…। ব্যাপারটাই আলাদা, অন্যরকম। টিউশন ফি জমে গেলে শোধ করার তার কোনো তাড়া নাই। ডেটিং সময় পেরিয়ে গেলে বান্ধবীর বকোনীর ভয় নাই। অনেক কিছু নাই। অনেক ঝামেলা নাই। অনেক টেনশন নাই।

অথচ, ছেঁড়া মানুষদের কতো অসুবিধে এই শহরে। সকাল থেকে কখন বিকেল গড়িয়ে যায়। বিকেল থেকে কখন রাত। টের পাওয়া যায় না। বাইরের আকাশটা কেবল ক্যাম্পাসের জানলায় ফ্রেমবন্দি, অফিসের জানলায় ভারি পর্দার আড়ালে কখন সে আকাশ বদলে যায় তা টের পাওয়া ভিষন দায়। রাত সাড়ে এগারোয় বাড়ি ফিরে শাওয়ারের নিচে নিজেকে ব্যবচ্ছেদ করি। কতোকাল চলবে এমন করে?

ইদানিং কথা দিয়ে কথা না রাখতে শুরু করেছি। মানুষ যে যা বলছে মনোযোগ দিয়ে শুনছি এবং ভুলে যাচ্ছি। এরি ফাঁকে দারুন চকচকে এক চাকু জোগাড় করেছি। এক টিপে লকলকে ধারালো ফলা বের হয়ে আসে। হাতের তালুতে ফলা ঠেকিয়ে এর শক্তি অনুভব করি। একেলা রাতের আঁধারে ভাবি, ইচ্ছে করলেইতো দারুন কামানো যায়। ইচ্ছে করলে যেমন ইচ্ছে তেমন হয়ে যেতে পারি। প্রচন্ড রকমের লোভ জাগে।

চাকুটা ভিষন জাদুকরি।

অনেক সমস্যায় ঝুলে আছি। আশা হারাইনা তবু। আশা নিয়েই বেঁচে আছি। সুদিন দুর্দিন বলে কিছু নেই এ জগতে। যতদূর বেঁচে আছি, যতদূর যেতে পারি, তার সবটুকুই বোনাস।

বেঁচে আছি।

বেঁচে কি আছি?

একলা হওয়া বৃষ্টি

ঘাড়ে অসহনীয় ব্যাথা। লোমহর্ষক যন্ত্রণা নিয়ে প্রচন্ডরকম এলোমোলো আর হতাশার বিশাল সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছি, এখন। আমি জানিনা আমি কে। আমি জানতে চাইনা আমি কে। কিংবা আমি জানতে চাইনা কাদের জন্য আমার এই বেঁচে থাকা। আমি জানতে চাইনা তারা কারা। ব্যাস। এটুকুইতো, নিজের দায়িত্বের গায়ে চরমতর অবহেলার প্রলেপ লেপে সটকে পড়া।

এতোই সহজ?
আমি জানিনা। আমি জানতে চাইনা।

আমি কেবল এই কার্বনমনোক্সাইডের বিশাল জগত ছেড়ে বিশুদ্ধ আর সবুজ বাতাসে অনেকদিন ধরে বাঁচতে চাই। আমি জানতে চাই ঐ সবুজ দিগন্তের ‘পর কতোজন উদভ্রান্ত পথিক বৃষ্টিদিন গুনে এলো আর গেলো। আমি জানতে চাই তারা শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেলো কিনা… আমি জানতে চাই বহুকিছু, আমি দেখতে চাই অনেক কিছু।

আমি সর্বোপরি বেঁচে থাকতে চাই, নির্ভেজাল।

~~~~~~~~~~~~~
প্রকাশ কাল : ১৩ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:১৮
from- Nextblog

কর্পোরেট লাইফ

সাড়ে বারোয় আটকে যখন ঘড়ির কাঁটা, তখন ভীড়ের মাঝে কোনমতে জায়গা করে নিতে পারা আমার কান্ত শরীর শতভাগ প্রস্তুত ডারউইনের বানর সাজতে। কোনমতে বাম্পার ধরে ঝুলে থাকা, ভরদুপুর। দম বন্ধ হয়ে আসা জ্যাম যখন ম্যাপ করতে পারে না কে মানুষ, কে ড্রাইভার, কে ট্রাফিক পুলিশ ঠিক তখন হাবল টেলিস্কোপের কোনোরকম সাহায্য ছাড়াই আমি তোমায় দেখতে পেলাম। আমি, তুমি পাশাপশি। তুমি আমায় দেখতে পেয়েছো কি পাওনি বুঝতে পারেনি আমার অনাহারী দুচোখ। তাদের কালো লেন্স ব্যাস্ত তখন তোমার শরীরের নানান ভাঁজ উপভোগ করায়। তোমার মুখ, ঠোঁট, তোমার চুল, নখ, তারপর ছোট স্বচ্ছ পরিধানের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা হিমালয়ের মতোন তোমার সুউচ্চ স্তনযূগল… দেখলাম। উপভোগ করলাম তোমার প্রতি ভাঁজে ভাঁজে সাঁটানো কর্পোরেট বিজ্ঞাপন। হাত মুক্ত থাকলে হাত তালি দিয়ে তোমায় বাহবা দিতাম। সত্যিই তুমি এক দারুন জিনিস। তুমি সামিনা চৌধুরীর আইকন। তুমি কর্পোরেট লাইফের রানী।

তারপর আরো কিছু দেখতে পাবার আগে দেখি তুমি নেই। আমার এ্যাপেক্স এর উপর কার গুলিস্থানী জুতো উঠে জ্ঞান হারিয়েছে, খেয়াল হতেই সদ্য জন্ম লাভ করা শিশুর মতো চিৎকার করে উঠে বলি-

– অই মিয়া চোখ কি বাসায় রেখে এসেছেন?
দেখলাম, কর্তা কপালে সের দুই ওজনের ভাঁজ ফেলে দিয়েছেন। তারপর, আমার জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে কোনমতে তার দিশেহারা দৃষ্টি সেট করে বললেন, ‘এই বাসে চোখ নিয়ে এলেও কোনো লাভ নেই। তাই বাসায় রেখে এসেছি!’

কড়া রোদের ধাক্কা সামলে আমি ফের তোমায় দেখতে পেলাম। তুমি বসে ঠান্ডা হাওয়ায়। আরাম করে। পায়ের উপর পা তুলে। আর আমি ঝুলছি আগুনে, কোনোমতে, চারপাশে আমার মতো বহুজীবি মানুষ। এরা কর্পোরেট লাইফ উপভোগ করতে জানেনা। এরা কেবল এই ৩-বি নং বাসের বাম্পার ধরে ঝুলে ঝুলে চাকরীর সন্ধানে যেতে জানে, কিংবা দিন ঠিকা কাজ, বা, মাসে বড় জোড় হাজার চারেক ওজনের গা খাটুনির চাকরী…; কর্পোরেট জীবন কি সেটা এরা জানেনা।

তারপর আবার তুমি গেলে এগিয়ে। আবার এলে পাশাপাশি। মাঝখানে দুই মেরুর দূরত্ব। এমনিতেই তোমাতে আমাতে তফাতের হরেক ছড়াছড়ি। তুমি কর্পোরেট লাইফের রানী। আমি শহুরে ক্রীতদাস। ইচ্ছেমতোন নিজেকে বিকিয়ে দেই। আজ এখানে তো কাল ওখানে। মাইনে টেনেটুনে হাজার দশেক। তোমার ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনী শরীর, অনায়াসে পায় লক্ষ লক্ষ। তোমার হাতা কাটা জামার ভেতর তুলতুলে হাত। বগল। তোমার ঠোঁটের খাঁজে বাঁকা উপহাস। কাদের প্রতি? তোমার কপাল জুড়ে কক্সো বাজারী অভিলাস। আমার কপাল জুড়ে নোনা জল। গড়িয়ে যায় কান্তিহীন। আমাতে, তোমাতে তফাতের হরেক ছড়াছড়ি। তুমি বাংলা লিঙ্কের রানী। আমি? হায়, যদি হতাম কালোমেধাবী। বুদ্ধিজীবি সাজতাম, ডিরেক্টর। তোমার জমিন জুড়ে আঁকতাম রঙিন ছবি। যেমন ইচ্ছে তেমন কিংবা উল্টে পাল্টে, খেলতাম। তারপর, টয়লেট পেপারের মতোন ছুঁড়ে দিতাম। তুমি হতে তখন ফার্মগেটের ২৫০ মূল্যমানের বোরখাওয়ালী।

তখনো কিন্তু তুমি কর্পোরেট লাইফের রানী।
শরীরজীবি কিংবা পেশাজীবি!

বৃষ্টির জন্য

যখন ধূলো জমে ওঠে শহুরে জীবনের প্রতি কোনে কোনে, যখন সন্ধ্যার বিষন্ন আকাশ বেগুনী কালোয় ছেয়ে যায়, যখন ভাবতে গেলে ভাবনারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন বৃষ্টির জন্য মনটা কেমন খা খা করে। কখনো বাসের ভাঙ্গা জানলা দিয়ে, কখনো বাসার ছোট বারান্দায় দাঁড়িয়ে, কখনো চলতি পথে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ চোখ চলে যায় ঝুলন্ত আকাশে, মেঘের খোঁজে। মেঘ, নেই কোথাও। তখন মেঘের জন্য মন খারাপ করে।

যখন মন খারাপ করে তখন জীবন নিয়ে ভাবনার আয়োজন চলে। অনর্থক কাটে সারাবেলা। হাতের মুঠোয় বন্দি জলবিন্দুর খুনশুটির সুরেলা অনুভব জীবনকে ভাবনাহীন করতে পারেনা। অস্থির… জীবন নিয়ে। মানুষ। কতোটুকুই বা ভাবতে পারে? জীবন মানে খাঁচার ভেতর অচিন পাখি। কোনো সল্যুশন নাই।

তাই বৃষ্টির জন্য মনটা ভিষন কেমন কেমন করে। থমকে যাই প্রতিটি পদে। এক্সাম চলে আসে চোখের সামনে। প্রশ্ন পড়ি, প্রশ্ন দেখি, প্রশ্ন নিয়ে নাড়াচাড়া করি, প্রশ্নগুলোর কোনো সল্যুশন পাইনা।

এখানে আজ বৃষ্টিহীন প্রতিক্ষন, কাটে বিষন্ন মরমর। রাত কাটে নির্ঘূম নিথর। বেদুঈন ঝরাপাতারা সুখ হারায়। একা পাখি ঘর ভুলে যায়। মোড়ের দোকানীর তেলসিঁটে চেহারায় লোভাতুর দৃষ্টি জাগে। খুলনা টি স্টলে জায়গা পাওয়া যায় না। বিজয় স্মরনী যাত্রীর অপেক্ষা বাড়ায়। কদম দিন দিন তার পরিচয় হারায়।

বৃষ্টি… এ অবেলায় তুমি নাই;
তাই, তোমার অপেক্ষায়। পঁচিশ পেরোনো একটি ছেলে, একাকী, নিরালায় জীবনানন্দে জীবনের মেঘ খুঁজে বেড়ায়।

মরুভূর প্রেত চমকিয়া তার চরে পানে চায়–
সুরার তালাসে চুমুক দিল কে গরলের পেয়ালায়!

ঝরাপাতা, শিশির

কাটছে দিন ঝরাপাতায়। শুকনো। এলোমেলো, আর বিবর্ণ নিরাবেগ।

হিসেব কষা হয়না বহুদিন, দেখা হয়না মাথার উপরের বড় ছাদটায় জমে ওঠে কখন পূর্ণিমা, কখনবা ঝাঁক ঝাঁক অনুজ্জ্বল তারা সরিয়ে উকি দেয় শুকতারা। ফুলগাছগুলো? হয়তো মরেটরে গেছে। বারান্দায় যাওয়া হয়না কতোদিন…। ছোট্ট বন্দি খেলার মাঠ পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাই ঠিকানায়। আজ বহুদিন পর হাঁটতে হাঁটতে সহসা আনমনা হয়ে যাই। বাতাস অজস্র ঝরাপাতা কুড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে পা ছুঁয়ে। মন ছুঁয়ে। গতানুগতিক যাযাবর বেঁচে থাকা। কেবল। আমি বেঁচে আছি। তন্ময় হয়ে ভাবি, একে বেঁচে থাকা বলে? হুমমম। রাত জানে আমি কতোটা দূরে বন্দর ছেড়ে। ঠিকানাহীন এলোমেলো দমকা হাওয়া হঠাৎ চারপাশ তোলপাড় করে বয়ে যায়। অসংখ্যা ঝরাপাতা ভেতরটায় আলোড়ন তুলে একটা দুটো করে ঝরে পড়ে। চোখের সামনে। সব এলোমেলো করে দিয়ে বুকের গভীর থেকে বেরিয়ে আসে অজস্র বোবা কান্না, হতাশা, আক্ষেপ, দীর্ঘশ্বাস। বুক, পাঁজর কাঁপিয়ে বেরিয়ে আসা সে দীর্ঘশ্বাস একটা কানা গলির শেষে থমকে দাঁড়িয়ে নিজের কাছে আমাকে অপরিচিত সাজায়। আমি চিনিনি আমাকে। অদ্যবদি আমি বুঝিনা নিজেকে।

রাত জানে আমি কতোটা দূরে, বন্দর ছেড়ে।

সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই, ওবামা তোমায় ধিক জানাই

মুম্বাইতে বোমা হামলা হয়। সন্ত্রাসীরা হোটেল দখলে নিয়ে নিশানা প্র্যাকটিস করে। সাইডে, মিডিয়া রমরমা ব্যবসা কামায়। আর অ্যামেরিকার হবু প্রেসিডেন্ট তীব্র নিন্দা জ্ঞাপনের সাথে সাথে অঙ্গীকার করেন, যুদ্ধ আরো একটি হবে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। পাকিস্তান যে ভারতের নাম্বার ওয়ান প্রতিপক্ষ! তারচেয়ে বড় কথা পাকিস্তান মুসলমানদের দেশ। ইহুদীপুত্র জনাব ওবামার নতুন দিনের অঙ্গীকার হলো এ-ই! শালা মাদারচোদ।

ওবামা নিয়ে আমাদের উৎসাহের কমতি নেই। তিনি মহান বলে আমরা দিস্তার পর দিস্তা লিখে ক্লান্ত হয়ে গেছি এরিমধ্যে। অথচ আমরা একটু খোঁজ খবর নেবার মতো ফুসরত পাইনা শালা কাদের টাকায় নির্বাচনের বিশাল খরচ চালিয়েছিলো।

পৃথিবী আবারো রক্তে লাল হয়। গাজায় ৭০০ মানুষ মুছে যাবার আগে জেনে যেতে পারেনি কি ছিলো তাদের অপরাধ! স্কুলে আশ্রয় নেয়া ফুটফুটে বাচ্চা গুলো… জেনে যেতে পারেনি গোলাগুলিবিহীন পৃথিবীটা কতোটা সুন্দর!

ওবামা… নতুন দিনের বদল… বহুবছর নিশ্চুপ থাকার পর, ৭০০ মানুষ হারিয়ে যাবার পর বললো- আমি সবকিছু নজরে রাখছি! শালা ইসরাইলের চ্যালা। সব শালা বেজন্মার দল। বেজন্মা অ্যামেরিকার সব মানুষ। বেজন্মা সন্ত্রাসীরা। বেজন্মা ইসরাইল। নিপাত যা তোরা। নিপাত যা।

না-ভোটের ফলাফল

২৯৯টি আসনেই ‘না’ ভোট পড়েছে। মোট ৮ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৮ জন ভোটারের মধ্যে পৌণে ৪ লাখ ভোটার ‘না’ ভোট দেয়। যা মোট ভোটের শতকরা দশমিক ৪৬ ভাগ। তবে গড়ে প্রতিটি আসনে ১২শ’র বেশি ‘না’ ভোট পড়ে।

ঢাকা জেলার কয়েকটি আসনেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘না’ ভোট পড়েছে। ঢাকা নগরীর প্রায় সব আসনেই ভোট সংখ্যার বিচারে ‘না’ তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

ঢাকা-৫ আসনে : ৫ হাজার ৯৩টি,
ঢাকা-৬ আসনে : ৪ হাজার ৪৫৯টি,
ঢাকা-৮ আসনে : ৫ হাজার ৪৮১টি,
ঢাকা-৯ আসনে : ৪ হাজার ৬৬৮টি,
ঢাকা-১০ আসনে : ৫ হাজার ৬৮৭টি,
ঢাকা-১২ আসনে : ৫ হাজার ৫৫৬টি,
ঢাকা-১৩ আসনে : ৮ হাজার ৬০৮টি,
ঢাকা-১৪ আসনে : ৭ হাজার ৮২৪টি,
ঢাকা-১৫ আসনে : ৫ হাজার ২৯৮টি,
ঢাকা-১৬ আসনে : ৪ হাজার ৮৭৮টি,
ঢাকা-১৭ আসনে : ৬ হাজার ২১৩টি এবং
ঢাকা-১৮ আসনে : ৬ হাজার ২৮৯টি ‘না’ ভোট পড়েছে।

চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বিভাগ ওয়ারী হিসেবে ঢাকা বিভাগে দেড়লাখ, রাজশাহী বিভাগে ৮১ হাজার, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮০ হাজার, খুলনা বিভাগে ৩৫ হাজার, সিলেট বিভাগে সাড়ে ১৫ হাজার ও বরিশাল বিভাগে সাড়ে ৯ হাজার ‘না’ ভোট পড়েছে।

রাঙামাটিতে সবচেয়ে বেশি ‘না’ ভোট পড়েছে। এখানে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮১২ জন। এর মাঝে ‘না’ ভোট পড়েছে ৩২ হাজার ৬৪টি। অর্থাৎ এ আসনে মোট ভোটের প্রায় ১০ শতাংশ ‘না’ ভোট দিয়েছেন।

সবচেয়ে কম ‘না’ ভোট পড়েছে নোয়াখালী-৬ আসনে। এই আসনে মাত্র ১১৪টি ‘না’ ভোট পড়ে।

পরিশেষে সকল না ভোটারকে অভিনন্দন

‘না-ভোট’ - প্রতিবাদমুখর এক দিগন্ত

‘না ভোট’ দিয়ে এলাম। ভোট দেয়ার নিয়মকানুন জানা ছিলো না। অভিজ্ঞতা তাই ভয়াবহ। পুরুষদের তিন ভোটরুমের ২ রুমে খা খা অবস্থা। আমার সিরিয়ালের রুমেই কিনা সারা বাংলাদেশ! বিশাল লাইন টপকে যখন ভোটরুমে ঢু মারলাম তখনই বিরাট লাইনের তথ্য ফাঁস! এরা এতো অদক্ষ! ভোটারের ভোটার নং মিলিয়ে দেখছে এক বুড়ো মহিলা! এখানে মহিলা কেনো? ভাবলাম মজা করা যাক! ন্যাশনাল কার্ড ধরিয়ে দিলাম। আফিসার (এরা নাকি অফিসার) আমার দিকে তাকিয়ে বলে- স্লিপ কোথায়?
- নাই
- তাহলেতো ভোট দেয়া যাবেনা
- কেনো যাবেনা? আমার কাছে ন্যাশনাল আইডি কার্ড আছে।
- এটা দিয়েতো হবেনা
- তাহলে এটা করার দরকার কি ছিলো?
পাশের অবিচার (অফিচার) বলে, এতো তর্ক করা যাবেনা। নিচে নেমে ভোটার নম্বর বের করে আনেন।
উত্তর শুনে প্রচন্ডরকম হতাশ আমি। ফাকরু তুমি দীর্ঘজীবি হউ। ভাগ্যিস নৌকা মার্কার একটা স্লিপ এনেছিলাম। ব্যাকআপ!
- এটা আগে দেন নাই কেনো?
- প্রয়োজন মনে করিনাই। আর আপনারা এতো স্লো কেনো? অন্য দুই রুমেতো কোনো লোকজনই নাই।
- ঐ দুরুমের ভোটার কম।
- ভোটার কম কেন? সবরুমেতো সমান ভোটার থাকার কথা!

আর কিছু বলতে পারলাম না। দেখলাম আমার স্লিপ নিয়ে তিনি সুডুকো খেলতে শুরু করেছেন। খুঁজে আর পান না। অবশেষে… মিনিট পাঁচেক পর ভোট দিয়ে বেরিয়ে এলাম।

যে কারনে ‘না ভোট’ দিলাম-
১. আমি স্বাধিন বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে অনেক চিন্তা ভাবনা করে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাইনি।
২. মুক্তিযুদ্ধের গর্ব বুকে নিয়ে একজন সচেতন বাঙালী হিসাবে আমি দুর্নীতি, সন্ত্রাস, স্বৈরাচার আর যুদ্ধাপরাধী নিয়ে জোট গড়া কোনো দলকে ভোট দিতে পারিনা।
৩. জীবনের প্রথম ভোটের জন্য সারাজীবন আপসোস করতে চাইনা।

‘না ভোট’ আমার কাছে এক প্রতিবাদমুখী অস্ত্রের নাম। এই অস্ত্র সাধারণ জনগণের। এই অস্ত্র অসৎ রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষমতায় বসা থেকে বিরত রাখতে পারে। এই অস্ত্র একজন অসৎ রাষ্ট্রপ্রধানকে ভালো কাজ করার জন্য উৎসাহিত করতে পারে।

‘না ভোট’ তাই একটি প্রতিবাদমুখী দিগন্তের নাম। জনগণের মুক্তির গান।

ফকরু মামা আমারে ‘না-ভোটার’ বানায়া দিলো!

না ভোট দিতে বাধ্য হইতাছি। বাধ্য হইতাছি এই কারনে যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলে যারা নিজেদেরকে চেনায় তারাও এবার স্বৈরাচার আর যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে জোট বানছে। জিয়ার সুনাম রক্ষা দূরের কথা বি.এন.পি এবারও নির্ভেজাল রাজাকারদের নিয়ে ভোট ব্যবসায় নেমে গেছে। ফকরু মামার ফক্করবাজি আর নিজের পশ্চাৎদেশ বাঁচানোর বেহায়াপনার শেষ দেখে আমি চরমতর হতাশ। জাল ফেলে বোয়াল, পুঁটি ধরার দরকারটা কি ছিলো? আমরা আবাল আমজনতা এসব দেখি আর বাল ছিরি। সন্ত্রাস বাড়ানোর মিশন নিয়ে বাললীগ এবার নির্বাচনে আইতাছে। এটা একপ্রকার নিশ্চিত। আমি ভার্চুয়াল মুক্তিযোদ্ধাদের মতোন সুবিধাবাদি নই। তাই বাললীগ আর বেআনপিরে ভোট দিতাছি না। বাললীগরে ভোট দিমুনা কারণ আমি বাললীগ আর জেমাইতি এসলাম এর মধ্যে কোনো তফাৎ দেখিনা। দুই দলই প্রচন্ডরকম আক্রমনাত্মক এবং দুদলের স্বভাব রাস্তার ন্যাড়ি কুত্তার মতো।

না-ভোটের সাথে আছি এবং না-ভোট নিয়ে চুলকানিকন্যা শেখ হাসিনার মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানাই।

এবং

অবশেষে কল সেন্টারে চাকরী হলো। খুব আলসে কিন্তু প্রচন্ডরকম প্রত্যাশা নিয়ে ইউনি’র ল্যাব থেকে এপ্লাই করেছিলাম। তারপর ফোন কল, পরীক্ষা, ইন্টারভিউ এবং অবশেষে টেকনো কামলা হলাম। দেখি কতদূর কি করতে পারা যায়। চাকরী, পড়াশুনা. . . নতুন করে আবার যুদ্ধ ক্ষেত্রে নেমে যাওয়া। মন্দ লাগেনা জীবনটা। উত্থান আর পতনে ভরপুর। আই লাইক মাই লাইফ :)। এ আসলে তেমন কিছু না, কেবল সময়ের স্রোতে ভেসে চলা। সময় কার ভালো যায়, কার মন্দ সেটা বোঝা মুশকিল। হঠাৎ নিজেকে খুব ফাঁকা মনে হচ্ছে। Appointment লেটার এ সাইন করলাম, এখন দেখার বিষয় ব্যাপারটা আমি কেমন করে মানিয়ে নিতে পারি। যাক, নিজেকে অভিবাধন। অস্তিত্বে এখনো কিছু বারুদ জমে আছে ব্যাপারটা উপলব্ধি করাটাই জীবনের আসল মানে।

অন্যান্য পাতা

আর্কাইভ

ইদানিং যা লিখেছি

ভাবনার ঘুড়ি

সাম্প্রতিক মন্তব্য

এখন ব্লগটি পড়ছেন