অনেকেই আত্মহত্যাকে কাপুরুষের কাজ বলে। আমার কাছে তেমন মনেই হয়না। আরব বসন্ত বলে যে শব্দটা এখন বহুল আলোচিত সেটার শুরুটা কিন্তু কারো আত্মহত্যার কল্যাণেই হয়েছে। “কিছু নেই” একজন মানুষ মিনার কতোটা আক্ষেপ নিয়ে মৃত্যুকে বেঁচে নিয়েছে সেটা হয়তো সবাই বুঝবে না। কেউ বলবে- কাপুরুষ, কেউ বলবে- মহাপাপ করেছে, কেউ বলবে- অকর্মা! আমারতো মনে হয় যারা এসব শব্দ ব্যাবহার করে তারাই সবচেয়ে বড় অকর্মা, সবচেয়ে বড় কাপুরুষ। এই সমাজে প্রত্যেকটা শিরায় উপশিরায় যেসব দূর্নীতি চলছে সেসব নত মাথায় মেনে নিয়ে তারা সমাজকে ক্যান্সারে রূপ নিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করছে।
মাঝে মনে হলো আমার বেঁচে থাকার কোন মানে নেই। মিনারের চলে যাওয়াটা নতুন করে এ বিষয়ে ভাবছিলাম। তিনি সুন্দর দুটো চোখের কথা ভেবে একবার মত পাল্টাতে পেরেছিলেন, আমি হয়তো তাও পারতাম না। নিজের ভেতরে অনেকবার প্রশ্ন করেছি, এমন কেউ কি আছে যার জন্য আমার বেঁচে থাকাটা জরুরী? উত্তর বার বার এক-ই এসেছে- না, নেই। পৃথিবীতে মানুষের যদি কোন আপনজন থেকে থাকে তবে সে হচ্ছে তার “মা”। মা’কে হারানোর পর সত্যিকার অর্থে আমার আপনজন বলে কেউ নেই। আমি নি:স্ব। “কিছু নেই” মানুষ। কে কিভাবে আমাকে কতোটা গভীর ভাবে অনুভব করছে, আমার উপস্থিতিতে কতোশতো ফুলের বাগান ফুলে ফুলে ভরে যাচ্ছে তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। আমার মনে ভেতরের ফুলের বাগান গত ৯ অক্টোবরে ধ্বংস হয়ে গেছে আমার জীবনে এটাই বড় ঘটনা।
তবু বেঁচে আছি। কিছু প্রতিশ্রুতি পূরণের আশায়। কিছু মানুষের স্বপ্ন পূরণের আশায়। নিজের জন্য কিছু্ই করছি না। কিছুই না…
সকল “কিছু নেই” টাইপ মানুষদের অজস্র ভালোবাসা।
